Dark Mode
Tuesday, 25 June 2024
Logo
যশোরের শার্শা  উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা

যশোরের শার্শা উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা

বেনাপোল প্রতিনিধি ছবি আছে
যশোরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা শার্শার নির্বাচন আগামী ২১ মে। ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হবে এই উপজেলাতে । নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠার শেষ নেই। ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে সীমান্তবর্তী এই উপজেলার পরিবেশ।
যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তারা সকলেই আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা।

ইতিমধ্যে নির্বাচনী সহিংসতায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যান্য স্থান থেকেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে।
দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল ও শার্শা উপজেলা যশোর জেলার অন্তর্গত। এই বন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে সরকার। ভারতের পশ্চিম বাংলার রাজধানী কোলকাতার দূরত্ব কম হওয়ায় দেশের শতকরা ৭০ ভাগ পাসপোর্টযাত্রী বেনাপোল বন্দর দিয়েই যাতায়াত করেন।

বেনাপোল বন্দরের উপর অনেক মানুষের জীবিকা নির্ভর করে। সে কারণে এ বন্দরকে নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার করার প্রবনতা স্থানীয় রাজনীতিবিদদের।
প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকায় যে যার পেশী শক্তি কাজে লাগানোর চেস্টা করছে। নির্বাচনকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ নিয়ে শংকাও তৈরি হয়েছে।

শার্শা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মিন্নু (মোটরসাইকেল), উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল (ঘোড়া), উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান অহিদ (আনারস) এবং যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন (দোয়াত কলম)।

ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার (তালা), সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সরদার সাহরিন আলম বাদল (টিউবওয়েল), যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম মিলন (টিয়া পাখি) এবং শফিকুল ইসলাম মন্টু (চশমা)।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন। তারা হলেন বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আলেয়া ফেরদৌস (হাঁস), নাজমুন নাহার (ফুটবল) এবং জেলা যুবমহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামিমা আলম সালমা (কলস)।

২ মে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের পর পরই নির্বাচনী প্রচারে সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।

আব্দুল মান্নান মিন্নু ছাড়া চেয়ারম্যান পদের অপর তিনজন প্রার্থী স্থানীয় রাজনীতিতে এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত। যে কোনো কর্মসূচি থেকে এমপির ব্যক্তিগত ও অন্যান্য অনুষ্ঠানাদিতে ছায়ার মতো সঙ্গ দিতেন অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, অহিদুজ্জামান অহিদ এবং সোহরাব হোসেন।

ফলে, একই পক্ষ থেকে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হওয়ায় এমপি শেখ আফিল উদ্দিন একটু অস্বস্তিতেই পড়েছেন বলে মনে করছেন তার সমর্থকেরা। যদিও, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন নিজেকে এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রচার—প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে নির্বাচনের লড়াইটা হবে ত্রীমূখী।

কে›ন্দ্র দখল, বেছে বেছে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যেয়ে কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি, রাস্তায় ভোটারদেরকে আটকে দেওয়া, কেন্দ্রের সামনে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে বুথের মধ্যে একজন প্রার্থীর পক্ষে দেদারছে ভোট কাটার কৌশল সম্পর্কেও সবাই সতর্ক।

গত ১২ মে রোববার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় নির্বাচন নিয়ে যে দুটো উপজেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে আশংকা করা হয়েছে তারমধ্যে শার্শা উপজেলা অন্যতম। সভাতে প্রশাসনের পক্ষে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যারা জোর করে ভোট কেন্দ্র দখলের চেস্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কারণ, প্রশাসন কঠোরভাবেই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর। কোনো দল, মত বা প্রার্থীকে বিশেষ কোনো সুবিধা প্রদান, কেন্দ্র দখল বা সহিংসতা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকবে জেলা প্রশাসন। যে কোনো অপতৎপরতা শক্ত হাতে রুখে দেওয়া হবে বলে সুস্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল ওই সভায়।

শার্শা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, শার্শা উপজেলা পরিষদ ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৯৯ হাজার ১১১ জন। এর ভেতর পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫০ হাজার ১৯৯জন, নারী ভোটার এক লাখ ৪৮ হাজার ৯১০ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের দুই জন।
শার্শা উপজেলা নিয়েই গঠিত যশোর—১ সংসদীয় আসন। এবারের উপজেলা নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১০২টি। এর ৬৬১টি বুথে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রেরক:— মহসিন মিলন। বেনাপোল প্রতিনিধি। তারিখ:— ১৯/০৫/২৪
মোবা——০১৭১১৮২০৩৯৪



Comment / Reply From