প্রশ্নবিদ্ধ নয়, সুষ্ঠু-গ্রহণযোগ্য ভোট চায় ভারত!

12

এবার বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায় ভারত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ভোটের কথা জানিয়েছে দেশটি। এমনই বার্তা পাওয়া গেছে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা ভারতীয় সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্যে।

দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ভোটের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতে চলেছে। এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ভারত। সম্প্রতি বিষয়টি স্পষ্ট করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে যাচ্ছে। এতে ভারত আনন্দিত। এ বক্তব্যকে ইঙ্গিতপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এদিকে মনোনয়ন ফরমকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ভারতকে কিছুটা ভাবিয়ে তুলেছে। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এটিকে নির্বাচনে সহিংসতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

এ ঘটনাকে অনভিপ্রেত উল্লেখ করে তারা বলেছেন, ভোট দিতে মানুষ ব্যকুল হয়ে আছে। সংঘর্ষের ঘটনা তারই প্রতিফলন। তাই এবারের ভোট শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকবে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে আসা ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মুচকুন্দ দুবে শুক্রবার বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিকের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘সহিংসতা কোনো অবস্থাতেই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে বিভিন্ন দেশে ভোট কেন্দ্রিক হিংসা ছড়ায়। তবে ২০১৪ সালের ভোটের সময়ের সহিংসতার সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনার তুলনা করা যায় না।’

দুবে আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের কাছে নির্বাচন একটি উৎসবের মতো। অতীতের সামরিক শাসনের সময়ও এই উৎসব দেখা গেছে। পরে গণতান্ত্রিক শাসনের সময়ও দেখা গেছে। আমার মনে হয়, বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে মনে রাখবে এবং সজাগ থাকবে।’

দুবের মতো এবারের নির্বাচনকে যথেষ্ট ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করছেন বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার দেব মুখার্জিও। তিনি বলেন, ‘সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মনোভাব এবার ইতিবাচক। আগেরবার এমন মনোভাব ছিল না। এটা একটা বড় পরিবর্তন বলা যায়। এটিই এবার একটি ভালো নির্বাচনে সবাইকে উৎসাহী করে তুলেছে।’

ভারতীয় এই দুই সাবেক হাইকমিশনার বলেন, ‘এবার কোনো পক্ষই গেল বারের মতো অবস্থানে নেই। ফলে এবার একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটের আশা করা যেতে পারে। ভোট শান্তিপূর্ণ হবে, লুট হবে না। এবার যারাই ক্ষমতায় আসুক, তাদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না।’

ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজির ডিরেক্টর অলোক বনসল বলেন, গত পাঁচ বছরের বিরোধীহীন সংসদ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেনি। বিষয়টি এখন সবাই উপলব্ধি করতে পারছে। এবারের নতুন জোটবদ্ধতা নতুন বিরোধী নেতৃত্ব আনতে পারে কিনা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

WP Twitter Auto Publish Powered By : XYZScripts.com