মুহুরি প্রকল্প বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র

58

মুহুরি সেচ প্রকল্পকে ঘিরে গত আড়াই দশকে গড়ে ওঠে বিনোদন ও পিকনিক স্পট। শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে ভ্রমণ পিপাসু লোক এবং পর্যটক বেড়াতে আসে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মুহুরি রেগুলেটরের চারদিকে বাঁধ দিয়ে ঘেরা কৃত্রিম জলরাশি, বনায়ন, মাছের অভয়ারণ্য, পাখির কলকাকলি, বাঁধের দু’পাশে নিচে থেকে পাথর দিয়ে বাঁধানো এবং উপরদিকে দুর্বা ঘাসের পরিপাটি বিছানা। মুহুরি জলরাশিতে নৌভ্রমণের সময় খুব কাছ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস এবং প্রায় ৫০ জাতের হাজার হাজার পাখির দেখা পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত সূত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরের উপকূলে ১৯৮৭ সালে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় মুহুরি সেচ প্রকল্পটি। এর রয়েছে ৪০ গেট বিশিষ্ট রেগুলেটর ও ক্লোজার। এই ড্যামটি দেখতেও আকর্ষণীয়। এ ছাড়া নদীর পারে সবুজ বনানী ঘেরা মায়াবী পরিবেশ। নদীতে নৌকার সারি মাছ ধরা ও নৌকা ভ্রমণে এ এলাকার চিত্তাকর্ষক নৈসর্গিক শোভা ও মনোমুগ্ধকর অসংখ্য দৃশ্য ভ্রমণ পিয়াসী মানুষদের আকৃষ্ট করে। ক্যামেরায় ধরে রাখার মতো হাজারো দৃশ্য এখানে নিয়মিত দেখা যায়। জোয়ারের পানি যখন উথলে উঠে তটরেখায়, তখন আছড়ে পড়ে ছোট বড় ঢেউ। জোয়ারের পানিতে গলে পড়ে ঝুরঝুরে বালি আর লোনা পানিতে ঘন সবুজ অরণ্যের সবুজ ছাউনি।

নীল আকাশের বিশালতার নিচে সবুজের সমারোহ, এ যেন প্রকৃতির লীলাখেলা। উত্তাল সাগরের জোয়ার-ভাটা তো আছেই। ইঞ্জিন চালিত বোট আর নৌকায় করে থৈথৈ পানিতে নৌকায় ভেসে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন উৎফুল্ল পর্যটকরা। প্রতিনিয়ত পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হওয়া ওই আনন্দ উপভোগ করতে শত ব্যস্ততার মাঝেও ছুটে যান দর্শনার্থীরা।

আবহমান বাংলার রূপ চোখে ধরা দিল বহমান নদীর জলধারা দেখে। কোথাও জলাভূমির পাশে সবুজঘেরা সাজানো-গোছানো গ্রাম্যবাড়ির দৃশ্য। প্রজেক্টের উজানে জমানো পানির জলাধারে পানির গভীরতা বা উচ্চতা অনেকগুলো ঝরনাধারার মতো পানি নিষ্কাশনের সুইস গেট দিয়ে সশব্দে নিচে আছড়ে পড়ছে পানির প্রবাহ। আরো আছে মাছের অভয়ারণ্য আর নানা জাতের পাখি দেখার সুযোগ। আর তাই দেশের নানা প্রান্ত থেকে বেড়াতে অনেকেই আসেন এখানে। প্রজেক্টের বাঁধের ওপর সুইস গেটের সঙ্গে নানা রকম যন্ত্রাংশের সমাহার। মুহুরি প্রজেক্ট দেখতে অনেকটা লেকের মতোই।

এখানে পর্যটকদের জন্য বাহারি সব নৌকায় নৌবিহারের সুযোগ রয়েছে। পর্যটকদের অনেকেই নৌকায় করে ঘুরে বেড়ান। পানকৌড়ি, মাছরাঙ্গা, বকসহ কয়েক জাতের পাখির আনাগোনা থাকে এখানে সব সময়। প্রজেক্টের উজানের দিকে তাকালে উল্টো দিক থেকে পানির জোরালো শব্দ শুনতে পাওয়া যাবে। আর এই শব্দের উৎস হচ্ছে ভাটির দিক থেকে আসা নদীর বড় বড় ঢেউ। নদীতে জোয়ার শুরু হলে, হুড়মুড় করে নদীর পানি বেড়ে যায়। অনেক দূরে দেখা খেলনার মতো জেলেনৌকাগুলো জোয়ারের তোড়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে একদম কাছে চলে আসে।

আর এদিকে আটকে পড়া নৌকাগুলোর ভাসানোর তোড়জোড় শুরু হয়। কিছু সময় নিলে নদীর জোয়ার ও ভাটা দুটোই একসঙ্গে দেখার সুযোগ হবে। সব মিলিয়ে এক অপরূপ সৌন্দর্য বিকশিত হয় মুহুরি প্রজেক্টে। তবে প্রকল্পস্থলে কোনো প্রকার হোটেল-মোটেল না থাকায় দর্শনার্থীরা সন্ধ্যায় ফিরে যান আপন নীড়ে।

মুহুরি প্রকল্প বা মুহুরি প্রজেক্ট হলো বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প। এ ছাড়াও দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এখানে অবস্থিত। দেশের সবচেয়ে বড় মৎস্য জোন হিসেবেও মুহুরি প্রকল্প পরিচিতি পেয়েছে। ফলে এটি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

WP Twitter Auto Publish Powered By : XYZScripts.com