উইঘুর নারীদের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারে বাধ্য করছে চীন

43

জনসংখ্যা কমাতে সংখ্যালঘু  উইঘুর মুসলমান নারীদের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারে বাধ্য করছে চীন। চীনা গবেষক আদ্রিয়ান জেনজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জাতিসংঘকে এ অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। চীন এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে।

এর আগেও চীনের বিরুদ্ধে উইঘুর মুসলমানদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। ধারণা করা হয়, প্রায় ১০ লাখ উইঘুরকে বন্দিশিবিরে রেখে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করা হয়েছে। চীনের দাবি, তাদেরকে কারিগরি শিক্ষা দিতে এই ‘পুনঃশিক্ষা’ শিবিরে রাখা হয়েছে। গত বছর বিবিসির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে যাতে বেড়ে উঠতে না পারে সেজন্য উইঘুর মুসলমান সন্তানদের তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে কৌশলে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে চীন।

সরকারি আঞ্চলিক পরিসংখ্যান, নীতি নির্ধারণী নথিপত্র এবং শিনজিয়াংয়ের নারীদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জেনজের প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

এতে অভিযোগ করা হয়েছে, গর্ভপাত না ঘটালে উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু নারীদের বন্দিশিবিরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় চীনা কর্মকর্তারা। যেসব নারীর সন্তান সংখ্যা দুইয়ের কম তাদের জরায়ুতে জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রণ ডিভাইস প্রতিস্থাপনের আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে। অন্যদের অপারেশনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বন্ধ্যা করা হয়। এছাড়া যেসব নারীর সন্তান সংখ্যা দুইয়ের বেশি তাদের বড় অংকের জরিমানা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের শেষ দিক থেকে ব্যাপক নিপীড়ন শুরু হওয়ার পর শিনজিয়াং একটি নিষ্ঠুর পুলিশি রাজ্যে পরিণত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যক্তিস্বাধীনতায় জরদস্তিমূলক রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের সর্বব্যাপী চেহারা উঠে এসেছে।’

জেনজের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিনজিয়াংয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে। ২০১৫ ও ২০১৮ সালের মধ্যে উইঘুরদের দুটি অঞ্চলে জন্মহার ৮৪ শতাংশ কমেছে। ২০১৯ সালে এই হার আরও কমেছে।

বার্তা সংস্থা এপিকে জেনজ বলেন, ‘এই হার কমে আসার ধরণ অপ্রত্যাশিত, এর প্রতি নিষ্ঠুরতা আছে। উইঘুরদের দাসে পরিণত করার ব্যাপক নিয়ন্ত্রণমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ এটি।’

দল বদল করা রাজনীতিবিদদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারপার্লামেন্টারি অ্যালায়েন্স অন চীনা সোমবার এক বিবৃতিতে ‘শিনজিয়াংয়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত পরিচালনার জন্য’ জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও চীনকে ‘দ্রুত এই ভয়াবহ পদ্ধতি বন্ধের আহ্বান’ জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি ‘সব দেশকে জাতিসংঘে যোগ দিয়ে এই অমানবিক নির্যাতন বন্ধের দাবি তুলতে আহ্বান’ জানিয়েছেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

WP Twitter Auto Publish Powered By : XYZScripts.com