বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া দেশের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ নেই। দেশের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে হলে দ্রুত নির্বাচন করতে হবে।”
১৯ জুলাই শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার সংলগ্ন লেডিস ক্লাবে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আমীর খসরু বলেন, “সংস্কার, ঐক্যমত—এসব কথা ঠিক আছে। কিন্তু তার বাইরের বিষয়ে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে যে বৈঠক হয়েছে, সেই অনুযায়ী নির্বাচন হতে হবে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে।”
তিনি বলেন, “মানুষ একটি স্থিতিশীল, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চায়। আমরা সবাই মিলে সেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিই এবং নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে ঐক্যবদ্ধ হই।”
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন সেই পরিবর্তন ধারণ করতে না পারলে, কোনো দল বা নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচিত সরকার ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠান ছাড়া আর কিছু করার জন্য আসেনি, আমি তাদের দোষ দিচ্ছি না। তাদের কাজ নির্বাচন দিয়ে দেশের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া।”
গণতন্ত্রবিরোধীদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে আমীর খসরু বলেন, “যারা ভোট চান না, তারা রাজনৈতিক দল করে কেন? জনগণের কাছে না গিয়ে কীভাবে রাজনৈতিক দল হয়? নির্বাচন করবেন না, আবার বলবেন আমি রাজনীতি করি—এটা চলে না।”
শিক্ষকদের প্রতি আর্থিক বৈষম্য ও অবহেলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একই সিলেবাসে পড়িয়ে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য কেন থাকবে? শিক্ষা আজ রাজনীতির শিকার। গত ১৫ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি দল ও পরিবারের আদর্শে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে, যা জাতির জন্য ভয়াবহ।”
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম টিপু। সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব মোহাম্মদ মোবারক আলী ও খন্দকিয়া চিকনদন্ডী স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহিদা আক্তার।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। উদ্বোধক ছিলেন শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন।
আরও বক্তব্য দেন: দৈনিক আমার দেশের আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি, এম এ ছফা চৌধুরী, হোসাইনুল ইসলাম মাতব্বর, অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার, মো. হাবিব উল্লাহ, আবদুল হক, নুরুল আলম রাজু ও নাজিম উদ্দীন প্রমুখ।