ঐতিহাসিক ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে ছিলো এক ব্যতিক্রমধর্মী উৎসবমুখর পরিবেশ। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত র্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে মুখর ছিলো নগরের বিভিন্ন প্রান্ত।
সকালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নিউ মার্কেট থেকে শুরু হয়ে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত একটি ‘বিজয় র্যালি’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। র্যালি পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, “২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ছিলো ফ্যাসিবাদবিরোধী গণজাগরণের প্রতিচ্ছবি, যা জনগণের বিজয়ে রূপ নেয়।”
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জামেয়া জামিল মসজিদ এলাকা থেকে একটি গণমিছিল বের করা হয়। চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আমির অধ্যাপক আলাউদ্দিন শিকদার ও মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক নুরুল আমিনের নেতৃত্বে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, “শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে দেশকে সত্যিকার ইসলামী ও গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে।”
বিপ্লব উদ্যান (২নং গেইট) চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এক দোয়া মাহফিল ও বিজয় র্যালি। সভাপতিত্ব করেন মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব শায়খ এনামুল হক সিরাজ মাদানী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহার বলেন, “এই বিজয় কেবল রাজনৈতিক নয়; এটি ছিল ঈমান রক্ষার আন্দোলনের ফল। আমরা দেশবাসীকে পশ্চিমা আধিপত্যের ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।”
লালখান বাজারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জুলাই সমাবেশেও ছিলো অন্যান্য রাজনৈতিক দলের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। সভাপতিত্ব করেন মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জান্নাতুল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা অধ্যাপক নুরুল আমিন, এনসিপির মোহাম্মদ জাওয়াদুল করিম, এবি পার্টির মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান এবং নেজাম ইসলাম পার্টির কারী ফজলুল করিম জিহাদি।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকালেই শহীদদের কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় শহীদদের স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি ও বুদ্ধিজীবীরা।
দিনব্যাপী কর্মসূচিগুলোতে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ওলামায়ে কেরাম, ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের সরব উপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়। সব মিলিয়ে ২৪-এর স্মৃতি বিজড়িত এই দিনে চট্টগ্রাম পরিণত হয় একটি গণজাগরণমুখর নগরীতে।