প্রোপাগান্ডার কিছু নেই, দেশের স্বার্থেই হচ্ছে সব কিছু — ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন ,চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের সম্পদ এবং এর মালিকানা দেশের হাতেই থাকবে। আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে বন্দর পরিচালনায় দক্ষতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে এ নিয়ে অহেতুক প্রোপাগান্ডা চালানোর কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি টার্মিনালে আন্তর্জাতিক মানের একটি কেমিকেল শেড উদ্বোধন করেন।
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিক ও কার্যকর করতে হলে দক্ষ অপারেশন নিশ্চিত করতে হবে। যারা এতদিন এনসিটি পরিচালনা করেছে, তারা খারাপ কিছু করেননি। তবে আমাদের লক্ষ্য এখন আরও কার্যকরতা, আরও দক্ষতা অর্জন করা। এজন্য আমরা ড্রাইডককে দায়িত্ব দিয়েছি, যেটি নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত।”
নৌবাহিনীর অধীনে থাকা চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে বলেও জানান তিনি।
নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী জানান, গত ৭ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ১৭ দিনে এনসিটিতে দৈনিক গড় হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩ হাজার ২৫০ টিইইউএস, যা পূর্বের চেয়ে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। এ সময়ে ৩০টি জাহাজের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রতিটি জাহাজে গড়ে ১০ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হয়েছে।
ভুল ধারণা দূর করার আহ্বান
আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “অনেকেই মনে করেন বিদেশি অপারেটর মানেই যেন বন্দরের মালিকানা দিয়ে দিচ্ছি। এটি পুরোপুরি ভুল। আমরা শুধু দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিচ্ছি। পরিচালনার দায়িত্ব আমাদেরই থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “সিঙ্গাপুরের অনেক বন্দরও আন্তর্জাতিক অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। দক্ষতা বাড়াতে হলে বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা গ্রহণ করতে হবে। আমি নিজে চট্টগ্রামের বাসিন্দাও নই, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থও নেই। আমরা দেশের স্বার্থেই কাজ করছি।”
১৯৮৬ সালের পর ট্যারিফে প্রথমবার সংশোধন
চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ বৃদ্ধির বিষয়েও কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “১৯৮৬ সালের পর এবারই প্রথমবার ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে। এটি এককভাবে নয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই হয়েছে। এমনকি এটি এখনও বিশ্বের অনেক বন্দরের চেয়ে এবং মোংলা বন্দরের চেয়েও কম।”
বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চট্টগ্রাম ড্রাইডকের কার্যকর ব্যবস্থাপনার ফলে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে গতি এসেছে। এতে আমদানি-রপ্তানি সহজ হচ্ছে এবং অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।