দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
আপডেট: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
ফ্রান্সের রাজপথে আবারও বিক্ষোভের ঢেউ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকটের প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) আয়োজিত এসব কর্মসূচির একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। দেশজুড়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় এক হাজার মানুষকে।
রাজধানী প্যারিস ছাড়াও মার্সেই, লিওঁ, বোর্দো, লিল ও তুলুজসহ বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও দিনের শেষ দিকে কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। কোথাও পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়া হয়, আবার কোথাও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরির ঘটনা ঘটে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে শুধু প্যারিসেই ছিলেন প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বিক্ষোভকারী। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, অংশগ্রহণকারীর প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ।
কেন রাজপথে নেমেছেন ফরাসিরা?
দীর্ঘদিন ধরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ জমছিল ফ্রান্সের সাধারণ মানুষের মধ্যে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সমস্যা, শিক্ষকসংকট ও উচ্চশিক্ষায় ভর্তিব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ।
গত সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে। পরে শ্রমিক সংগঠন, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের কর্মীরা এতে যোগ দেন।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানুষের আয় বাড়ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে দৈনন্দিন খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও সরকারি সেবার মানোন্নয়নেও কার্যকর পদক্ষেপ চান তাঁরা।
নিরাপত্তায় ৭০ হাজার সদস্য, তবুও সংঘর্ষ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। গত সপ্তাহের সহিংসতার অভিজ্ঞতা থেকে রাজধানী প্যারিসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়।
কিন্তু এত প্রস্তুতির পরও বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি। প্যারিসে বিক্ষোভের শেষ দিকে পুলিশের সঙ্গে একদল তরুণের সংঘর্ষ হয়। মার্সেইয়ে সড়কে আগুন জ্বালানো ও দোকানপাটে হামলার ঘটনাও ঘটে।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লোরঁ নুনেজ জানিয়েছেন, বিক্ষোভ চলাকালে প্রায় এক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আন্দোলন থামার লক্ষণ নেই
এর আগে ১৭ অক্টোবর দেশটির বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল। সেদিন সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এবারও ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি থেকে সরে আসেননি। ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং শিক্ষা খাতের সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
অন্যদিকে ফরাসি কর্তৃপক্ষের দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফ্রান্সের এই আন্দোলন এখন শুধু দ্রব্যমূল্য বা শিক্ষাব্যবস্থার সংকটে সীমাবদ্ধ নেই। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অসন্তোষ এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভও এতে প্রকাশ পাচ্ছে।
নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ায় আগামী দিনগুলোতেও ফ্রান্সের রাজপথে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন খান
নির্বাহী সম্পাদক: সাঈদ মোহাম্মদ আদনান খান
বার্তা সম্পাদক: আয়শা জান্নাত খানম
ডিজিটাল বস : মোহাম্মদ রাকিব হোসাইন খান
Email: joruribarta@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1841632000
Address: Plot-371/A, Block-C, Bashundhara Residential Area, Baridhara. , Dhaka, Bangladesh, 1229
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team