দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
নাজমুস সাকিব | ঢাকা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
সরকার অনুমতি দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে—পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠন। কেউ কেউ অবিলম্বে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
সমালোচনার মুখে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও বিতর্ক থামেনি। বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন মন্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
যে বক্তব্য থেকে বিতর্কের শুরু
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের একটি ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইজিপি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আইন ও সংবিধান অনুযায়ী পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এ সময় সরকারের অনুমতি থাকলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশপ্রধানের এই বক্তব্য সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই শুরু হয় সমালোচনা।
বিশেষ করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অতীত অভিজ্ঞতার কারণে তাঁর বক্তব্যকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
আইজিপিকে অপসারণের দাবি এনসিপির
পুলিশপ্রধানের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটি অবিলম্বে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানায়।
এনসিপির অভিযোগ, এ ধরনের বক্তব্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডকে আবারও গ্রহণযোগ্য করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করে।
দলটির মতে, সরকারের অনুমতি থাকলেও কোনো ব্যক্তিকে বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে এমন কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা সংবিধান ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।
একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের দাবিও জানিয়েছে দলটি।
সরকার অনুমতি দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে—পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠন। কেউ কেউ অবিলম্বে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
সমালোচনার মুখে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও বিতর্ক থামেনি। বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন মন্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
যে বক্তব্য থেকে বিতর্কের শুরু
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের একটি ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইজিপি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আইন ও সংবিধান অনুযায়ী পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এ সময় সরকারের অনুমতি থাকলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশপ্রধানের এই বক্তব্য সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই শুরু হয় সমালোচনা।
বিশেষ করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অতীত অভিজ্ঞতার কারণে তাঁর বক্তব্যকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
আইজিপিকে অপসারণের দাবি এনসিপির
পুলিশপ্রধানের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটি অবিলম্বে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানায়।
এনসিপির অভিযোগ, এ ধরনের বক্তব্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডকে আবারও গ্রহণযোগ্য করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করে।
দলটির মতে, সরকারের অনুমতি থাকলেও কোনো ব্যক্তিকে বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে এমন কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা সংবিধান ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।
একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের দাবিও জানিয়েছে দলটি।
টিআইবির উদ্বেগ, জবাবদিহির দাবি
আইজিপির বক্তব্য নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার, আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে দায়িত্ব থেকে অপসারণেরও আহ্বান জানিয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন তুলেছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যর্থতা আড়াল করতে ক্রসফায়ারের মতো বিতর্কিত বিষয়কে সামনে আনা হচ্ছে কি না।
তাঁর মতে, পুলিশের দায়িত্ব অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত করা, অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারের মুখোমুখি করা। বিচারবহির্ভূত কোনো পদ্ধতি এর বিকল্প হতে পারে না।
আইন ও সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কথা বলার পাশাপাশি সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ারের সম্ভাবনা তুলে ধরাকে পরস্পরবিরোধী অবস্থান বলেও মনে করছে সংস্থাটি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ
আইজিপির মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
সংগঠনগুলোর বক্তব্য, অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন থাকতে পারে। তবে সেই ব্যবস্থা অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানের মধ্যে থাকতে হবে।
কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও তাঁকে আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেই।
এ কারণে পুলিশপ্রধানের বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান জানানোর দাবি উঠেছে।
ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর
বিতর্কের পরসোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, আইজিপির বক্তব্যের উদ্দেশ্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করা নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার বোঝাতেই তিনি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই মন্তব্য করা হয়নি।
একই সঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, মানবাধিকার রক্ষা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাহিনীটি পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সাংবাদিকদের নিয়েও মন্তব্য, পৃথক প্রতিবাদ
একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির কিছু মন্তব্যও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এ ঘটনায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এবং বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও মন্তব্য করার উদ্দেশ্য আইজিপির ছিল না। অসাবধানতাবশত ওই মন্তব্য করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে পুরোনো বিতর্ক
বাংলাদেশে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগ নিয়ে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
এমন বাস্তবতায় পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ক্রসফায়ারের প্রসঙ্গ সামনে আসায় পুরোনো সেই বিতর্ক আবারও আলোচনায় ফিরে এসেছে।
সমালোচকদের মতে, অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেই কঠোরতার ভিত্তি হতে হবে আইন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার।
অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, আইজিপির বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।
এখন দেখার বিষয়, পুলিশের দেওয়া ব্যাখ্যার পরও আইজিপির অপসারণের দাবিতে রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অবস্থান কী হয় এবং সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।
আইজিপির বক্তব্য নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার, আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে দায়িত্ব থেকে অপসারণেরও আহ্বান জানিয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন তুলেছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যর্থতা আড়াল করতে ক্রসফায়ারের মতো বিতর্কিত বিষয়কে সামনে আনা হচ্ছে কি না।
তাঁর মতে, পুলিশের দায়িত্ব অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত করা, অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারের মুখোমুখি করা। বিচারবহির্ভূত কোনো পদ্ধতি এর বিকল্প হতে পারে না।
আইন ও সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কথা বলার পাশাপাশি সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ারের সম্ভাবনা তুলে ধরাকে পরস্পরবিরোধী অবস্থান বলেও মনে করছে সংস্থাটি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ
আইজিপির মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
সংগঠনগুলোর বক্তব্য, অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন থাকতে পারে। তবে সেই ব্যবস্থা অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানের মধ্যে থাকতে হবে।
কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও তাঁকে আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেই।
এ কারণে পুলিশপ্রধানের বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান জানানোর দাবি উঠেছে।
ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর
বিতর্কের পর সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, আইজিপির বক্তব্যের উদ্দেশ্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করা নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার বোঝাতেই তিনি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই মন্তব্য করা হয়নি।
একই সঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, মানবাধিকার রক্ষা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাহিনীটি পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সাংবাদিকদের নিয়েও মন্তব্য, পৃথক প্রতিবাদ
একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির কিছু মন্তব্যও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এ ঘটনায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এবং বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও মন্তব্য করার উদ্দেশ্য আইজিপির ছিল না। অসাবধানতাবশত ওই মন্তব্য করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে পুরোনো বিতর্ক
বাংলাদেশে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগ নিয়ে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
এমন বাস্তবতায় পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ক্রসফায়ারের প্রসঙ্গ সামনে আসায় পুরোনো সেই বিতর্ক আবারও আলোচনায় ফিরে এসেছে।
সমালোচকদের মতে, অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেই কঠোরতার ভিত্তি হতে হবে আইন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার।
অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, আইজিপির বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।
এখন দেখার বিষয়, পুলিশের দেওয়া ব্যাখ্যার পরও আইজিপির অপসারণের দাবিতে রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অবস্থান কী হয় এবং সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন খান
নির্বাহী সম্পাদক: সাঈদ মোহাম্মদ আদনান খান
বার্তা সম্পাদক: আয়শা জান্নাত খানম
ডিজিটাল বস : মোহাম্মদ রাকিব হোসাইন খান
Email: joruribarta@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1841632000
Address: Plot-371/A, Block-C, Bashundhara Residential Area, Baridhara. , Dhaka, Bangladesh, 1229
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team