জরুরী বার্তা | www.joruribarta.com
নাজমুস সাকিব | ঢাকা
প্রকাশ: রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
আপডেট: রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত সেতুটিতে ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থা রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনাও এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু কোথায় হবে?
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্য অবস্থান ও সংযোগব্যবস্থা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বৈঠকে ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এ ধরনের সংযোগব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করা। তবে প্রস্তাবিত সেতুর সুনির্দিষ্ট অবস্থান, নকশা ও নির্মাণব্যয় সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পর নির্ধারণ করা হবে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেতুটি নির্মিত হলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে।
মোংলা ও স্থলবন্দরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগে গুরুত্ব
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর পরিকল্পনায় শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সেতুটি নির্মিত হলে মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি এবং পণ্য পরিবহনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এসব সুবিধা বাস্তবে কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে সেতুর চূড়ান্ত অবস্থান, সংযোগ সড়ক, পরিবহন সক্ষমতা এবং বাস্তবায়নের ওপর।
দ্বিতীয় যমুনা সেতুতেও গুরুত্ব
একই বৈঠকে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী রংপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
নতুন সেতুর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ করার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর মতো দ্বিতীয় যমুনা সেতুর অবস্থান, নকশা ও নির্মাণব্যয়ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষে চূড়ান্ত হওয়ার কথা।
পদ্মা ব্যারেজ নিয়েও আলোচনা
বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
পাশাপাশি ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অর্থায়ন ও জমি অধিগ্রহণ বড় বিবেচ্য বিষয়
বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর জন্য চূড়ান্ত নির্মাণব্যয়, অর্থায়নের উৎস কিংবা নির্মাণকাজ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
কবে শুরু হতে পারে নির্মাণকাজ?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।
এরপর প্রকল্পের অবস্থান, নকশা এবং সম্ভাব্য নির্মাণব্যয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থাৎ দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে গেছে কিংবা নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেই সুফল পেতে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, অর্থায়ন, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়া প্রয়োজন।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন খান
নির্বাহী সম্পাদক: সাঈদ মোহাম্মদ আদনান খান
বার্তা সম্পাদক: আয়শা জান্নাত খানম
ডিজিটাল বস : মোহাম্মদ রাকিব হোসাইন খান
Email: joruribarta@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1841632000
Address: Plot-371/A, Block-C, Bashundhara Residential Area, Baridhara. , Dhaka, Bangladesh, 1229
স্বত্ব জরুরী বার্তা
Developed by Vida Team