দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
আপডেট: সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর সুফল পেতে শুরু করেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে অনেকের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে নতুন কাঠামো অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতন। একই সঙ্গে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বর্ধিত বেতনের বকেয়া অর্থও পেয়েছেন তাঁরা।
নতুন বেতন পাওয়ার খবরটি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্বস্তির হলেও সবার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি একসঙ্গে সম্পন্ন হয়নি। বেতন পুনর্নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন শেষ না হওয়ায় কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো সংশোধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ পাননি।
মোবাইলে বেতন জমার বার্তা
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, রোববার সকাল ১০টার পর থেকে অনেক সরকারি চাকরিজীবী তাঁদের মোবাইল ফোনে বেতন জমা হওয়ার বার্তা পান।
অক্টোবরের নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি আগের তিন মাসের বর্ধিত অংশের টাকা জমা হওয়ায় অনেকের হিসাবে একসঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ এসেছে।
তবে এই অতিরিক্ত অর্থ সবার ক্ষেত্রে সমান নয়। চাকরির গ্রেড, পূর্ববর্তী মূল বেতন এবং নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের নির্ধারিত হার অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ ভিন্ন হবে।
কারা এখনো বেতন পাননি?
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী অর্থ পরিশোধের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন পুনর্নির্ধারণ করতে হয়।
যাঁদের পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়নি, তাঁদের কেউ কেউ প্রথম দফায় সংশোধিত বেতন পাননি।
অর্থ বিভাগ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাকি কর্মচারীদের বেতন ও বকেয়া পরিশোধের আশা করা হচ্ছে।
নতুন বেতনকাঠামোয় কত বেড়েছে মূল বেতন?
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে আগের মতোই ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বৃদ্ধির পুরো অংশ এখনই একসঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। সরকার ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ধাপে ধাপে কার্যকর হবে বেতন বৃদ্ধি
নতুন বেতনকাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।
প্রথম ধাপে, চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তারা নির্ধারিত মূল বেতন বৃদ্ধির ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মচারীরা বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ সুবিধা পাবেন।
পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বর্ধিত অংশের আরও বেশি সুবিধা কার্যকর হবে।
২০২৭ সালের জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর সংশোধিত মূল বেতনের পুরো অংশ কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতার সংশোধিত হার কার্যকর হওয়ার কথা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
পেনশনভোগীদের জন্যও সুবিধা
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তাঁদের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বর্ধিত সুবিধা ও প্রাপ্য বকেয়া অর্থ দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হিসাব ও প্রক্রিয়াগত অবস্থার ওপর অর্থ পাওয়ার সময় নির্ভর করতে পারে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে কী জানা গেছে?
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ শুরু হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে আলাদা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে এ বিষয়ে কিছু ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষক ইতিমধ্যে নতুন বেতন পেয়েছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত নির্দেশনা ও ব্যক্তিগত বেতন হিসাব অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য অর্থ নিশ্চিত হবে।
বেতন নির্ধারণে অসংগতির অভিযোগ
নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের মধ্যে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেড, জ্যেষ্ঠতা ও বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়ে অসংগতির অভিযোগ তুলেছেন।
তাঁদের দাবি, বেতন পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার কারণে প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এসব বিষয় সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১১ বছর পর বড় পরিবর্তন
বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় বেতনকাঠামো কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় নতুন কাঠামো না আসায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বেতন পুনর্নির্ধারণের দাবি ছিল।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন বেতনকাঠামোকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বেতন বৃদ্ধি ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ায় এর পূর্ণ আর্থিক সুবিধা পেতে আরও সময় লাগবে।
এখন যাঁরা নতুন বেতন পাননি, তাঁদের প্রধান অপেক্ষা পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়া এবং বকেয়া অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন খান
নির্বাহী সম্পাদক: সাঈদ মোহাম্মদ আদনান খান
বার্তা সম্পাদক: আয়শা জান্নাত খানম
ডিজিটাল বস : মোহাম্মদ রাকিব হোসাইন খান
Email: joruribarta@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1841632000
Address: Plot-371/A, Block-C, Bashundhara Residential Area, Baridhara. , Dhaka, Bangladesh, 1229
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team