সব কারণে নুতন কোম্পানির শেয়ার দরে উল্লম্ফন

52

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত দেড় বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে ১৬ কোম্পানি। গত এক মাস ধরে কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে হঠাৎ উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। পুঁজিবাজারে এ সময়ে মন্দাবস্থা ঝেঁকে বসলেও নতুন কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। এ সময়ে বেশিরভাগ কোম্পানি একাধিক কার্যদিবস বিক্রেতা সংকেটর মুখোমুখি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় প্রথম ৬টি কোম্পানিই ছিল নতুন শেয়ার; যেগুলো দিনের মধ্যভাগ থেকে বিক্রেতা সংকটে থেকেছে। ঢাকা স্টক একচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত চার কারণে নতুন কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে এ উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। কারণগুলো হল- ১) সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিগুলো ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে; ২) সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিগুলো ভালো মুনাফা করেছে; ৩) চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের মুনাফায় ভালো প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে এবং ৪) কোম্পানিগুলো প্রায় সবগুলোরই আইপিও প্রকল্প উৎপাদনে আসছে বা উৎপাদনের আসার পথে রয়েছে। আইপিও প্রকল্পগুলো উৎপাদনে আসলে সামনের প্রান্তিকগুলোতে কোম্পানিগুলোর মুনাফা আরও বাড়বে-এমনটাই প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের।

১) লভ্যাংশ: সমাপ্ত অর্থবছরে ১৬ কোম্পানির মধ্যে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ দিয়েছে বিবিএস কেবলস। কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ স্টক ও ১০ শতাংশ ক্যাশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এরপর রয়েছে বসুন্ধরা পেপার ২০ শতাংশ ক্যাশ, এমএল ডাইং ২০ শতাংশ স্টক, নাহি অ্যালুমিনিয়াম ১০ শতাংশ স্টক ও ৭ শতাংশ ক্যাশ, কুইনসাউথ টেক্সটাইল ১০ শতাংশ স্টক ও ৭ শতাংশ ক্যাশ (ক্যাশ কেবল সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য), ভিএফএস ডাইং ১০ শতাংশ স্টক ও ৬ শতাংশ ক্যাশ (ক্যাশ কেবল সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য), নূরানি ডাইং ১১ শতাংশ স্টক ও ২ শতাংশ ক্যাশ, ওয়াইমেক্স সাড়ে ১২ শতাংশ স্টক, এসকে ট্রিম ১০ শতাংশ স্টক ও ২ শতাংশ ক্যাশ (ক্যাশ কেবল সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য), এ্যাডভেন্ট ফার্মা ১০ শতাংশ স্টক ও ২ শতাংশ ক্যাশ এবং আমান কটন, ইন্ট্রাকো সিএনজি, ইন্দো-বাংলা ফার্মা, কাট্টলী টেক্সটাইল, আমরা নেটওয়ার্কস প্রতিটি স্টক ১০ শতাংশ করে লভ্যাংশ দিয়েছে।

২)বছরের মুনাফা: সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে বিবিএস কেবলস। কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৮.০৮ টাকা। আগের বছর শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৪.১২ টাকা। সমাপ্ত অর্থবছরে মুনাফা অর্জনে উল্লেখযোগ্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বসুন্ধরা পেপার শেয়ারপ্রতি মুনাফা ৪.৬৩ টাকা, আমরা নেটওয়ার্কস ৪.০১ টাকা, আমান কটন ৩.২২ টাকা, নাহি অ্যালুমিনিয়াম ৩.০৮ টাকা, ভিএফএস ডাইং ২.২৮ টাকা, ওয়াইমেক্স ১.৯৬ টাকা, কুইনসাউথ ১.৯৬ টাকা, নূরানি ডাইং ১.৫০ টাকা।

৩) প্রান্তিক মুনাফা: চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ১৬ কোম্পানির মধ্যে আমরা নেটওয়ার্কস ও ইন্দো-বাংলা ফার্মা ছাড়া বাকি ১৪ কোম্পানিই মুনাফায় প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। মুনাফার দিক থেকে সর্বো্চ্চ অবস্থানে রয়েছে বিবিএস কেবলস। কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৩.০৬ টাকা। এরপর রয়েছে আমরা নেটওয়ার্কস ১.০৭ টাকা, বসুন্ধরা পেপার ১.০৪ টাকা, নাহি অ্যালুমিনিয়াম ০.৯৪ টাকা, আমান কটন ০.৮৪ টাকা, এসকে ট্রিম ০.৭১ টাকা, এ্যাডভেন্ট ফার্মা ০.৬১ টাকা, নূরানি ডাইং ০.৫৪ টাকা, কুইনসাউথ ০.৫২ টাকা, ভিএফএস ০.৫১ টাকা, কাট্টলী ০.৫১ টাকা, ওয়াইমেক্স ০.৪৯ টাকা, সিলভা ফার্মা ০.৪৮ টাকা, এমএল ডাইং ০.৩৮ টাকা, ইন্দো-বাংলা ০.৩১ টাকা এবং ইন্ট্রাকো সিএনজি ০.১৩ টাকা।

দর উল্লম্ফন: বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, লভ্যাংশ ও মুনাফাকে কেন্দ্র করে গত এক মাসে নুতন ১৬ কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে এমএল ডাইংয়ের। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর ২৯.৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকায় উঠেছে। এ সময়ে এর দর বেড়েছে ৮৪.৫০ শতাংশ। কা্ট্টলী টেক্সটাইলের দর উঠেছে ২২ টাকা থেকে ৩২.৭০ টাকায়; দর বেড়েছে ৪৮.৬০ শতাংশ। এসকে ট্রিমের দর উঠেছে ৩৪.৫০ টাকা থেকে ৫০.৯০ টাকায়; দর বেড়েছে ৪৭.৫০ শতাংশ। সিলভা ফার্মার দর উঠেছে ২৫.৩০ টাকা থেকে ৩৫.৯০ টাকায়; দর বেড়েছে ৪১.৯০ শতাংশ। এ্যাডভেন্ট ফার্মার দর উঠেছে ৩৬.৫০ টাকা থেকে ৪৩.৪০ টাকায়; দর বেড়েছে ১৭.৯৩ শতাংশ। ইন্দো-বাংলা ফার্মার দর উঠেছে ২৯.৯০ টাকা থেকে ৪০.৩০ টাকায়; দর বেড়েছে ১৭.৯৩ শতাংশ। কুইনসাউথ টেক্সটা্ইলের দর উঠেছে ৪২ টাকা থেকে ৪৮.৮০ টাকায়; দর বেড়েছে ১৬.২০ শতাংশ। ইন্ট্রাকো সিএনজির দর উঠেছে ২৯.৩০ টাকা থেকে ৩১.১০ টাকায়; দর বেড়েছে ৬.১০ শতাংশ। আমান কটনের দর উঠেছে ৪৫.৫০ টাকা থেকে ৪৭.৮০ টাকায়; দর বেড়েছ ৫.৫০ শতাংশ। আমরা নেটওয়ার্কের দর উঠেছে ৫৮.১০ টাকা থেকে ৬১.২০ টাকায়; দর বেড়েছে ৫.৩০ শতাংশ। ওয়াইমেক্সের দর উঠেছে ৩৬ টাকা থেকে ৩৭.৯০ টাকায়; দর বেড়েছে ৫.৩০ শতাংশ। এসব কোম্পানির লভ্যাংশ নেয়া বিনিয়োগকারীরা মুনাফায় রয়েছে।

দর পতন: অন্যদিকে, গত এক মাসে নতুন কোম্পানিগুলোর মধ্যে ভালো লভ্যাংশ দেয়া এবং মুনাফার ভালো প্রবৃদ্ধিতে থাকা দুই কোম্পানির শেয়ার দরে বড় পতন হয়েছে। এগুলো হল- বিবিএস কেবলস ও নূরানি ডাইং। এক মাসের ব্যবধানে বিবিএস কেবলসের শেয়ার দর ১২৯.৫০ টাক থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৮৬.১০ টাকায়। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ৪৩.৪০ টাকা বা ৩৩.৫১ শতাংশ। নূরানি ডাইংয়ের শেয়ারদর ২৪ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৭.৬০ টাকায়। দর কমেছে ৬.৪০ টাকা বা ২৬.৬৬ শতাংশ। এ দুই কোম্পানির লভ্যাংশ নেয়া বিনিয়োগকারীরা বড় লোকসানে রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভালো পারফরমেন্সের কারণে নুতন কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে- এটি ভালো দিকে। তবে বেশি বাড়াবাড়ির কারণে কোম্পানিগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে যাচ্ছে কীনা-সেটা বিনিয়োগকারীদের ভেবে দেখা উচিত। তাঁদের মতে, বর্তমানে পুঁজিবাজারের সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১৪.৬৩। যেহেতু সার্বিক পিই রেশিও ১৫ এর নিচে, সেহেতু পিই রেশিও ১৫-এর নিচের শেয়ারেই বিনিয়োগকারীদের মনোযোগি হওয়া উচিত। পিই রেশিও ১৫-এর উপরে শেয়ারে বিনিয়োগ করার আগে ভেবে-চিন্তে বিনিয়োগ করা উচিত।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নতুন কোম্পানিগুলোর মধ্যে পিই রেশিওর দিক থেকে বর্তমানে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত অবস্থানে রয়েছে বিবিএস কেবলস ও নূরানি ডাইং। সর্বশেষ দর অনুযায়ী বিবিএস কেবলসের পিই ৭.০৩ এবং নূরানি ডাইংয়ের পিই ৮.১৫। বাকি ১৪টি কোম্পানির মধ্যে আমান কটনের পিই ১৪.২৩, আমরা নেটওয়ার্কসের ১৪.৩০, নাহি অ্যালুমিনিয়ামের ১৫.১৩, কাট্টলী টেক্সটাইলের ১৬.০৩, অ্যাডভেন্ট ফার্মার ১৭.৭৯, এসকে ট্রিমের ১৭.৯২, সিলভা ফার্মার ১৮.৭০, ওয়াইমেক্সের ১৯.৩৪, বসুন্ধরা পেপারের ২২.২৪, কুইনসাউথের ২৩.৪৬, ভিএফসএস টেক্সটাইলের ২৯.৪৬, ইন্দো-বাংলা ফার্মার ৩২.৫০, এমএল ডাইংয়ের ৩৬.১৮ এবং ইন্ট্রাকো সিএনজির ৫৯.৮১।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

WP Twitter Auto Publish Powered By : XYZScripts.com