ব্যাংকিং জালিয়াতি মোকাবেলায় উদ্যোগের ঘাটতিতে ভারত

61

গত দুই বছরে ভারতে একাধিক ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। তা সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনা রোধে ব্যাংকিং খাতে বড় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। ডেলয়েট টাচ তোহমাত্সু ইন্ডিয়া এলএলপির বার্ষিক ব্যাংকিং জালিয়াতি জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে এক প্রতিবেদনে মিন্ট জানিয়েছে, গত দুই বছরে ভারতে ব্যাংকিং জালিয়াতির ঘটনা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ পূর্ণ জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশের কথা রয়েছে। খবর ইকোনমিক টাইমস।

ভারতের ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে ডেলয়েট জানায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনাবলি এবং ক্রমবর্ধমান জালিয়াতির ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ব্যাংকগুলোর মধ্যে তাদের জালিয়াতি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো উন্নত করার সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তা সত্ত্বেও কমপ্লায়েন্স আইন, ঋণ ও পরিচালনা বিভাগসহ সব বিভাগে কাজ করবে, এমন একটি পরিপূর্ণ আর্থিক অপরাধ কমপ্লায়েন্স এজেন্ডা ব্যাংকগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

ডেলয়েটের অংশীদার ও আর্থিক সেবার প্রধান কে ভি কার্তিক বলেন, জালিয়াতির ঘটনা রোধ ও শনাক্তে ব্যর্থতা— এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধির প্রাথমিক কারণ।

প্রযুক্তি ও ডিজিটাল চ্যানেলগুলোর ক্রমোন্নতি জালিয়াতি শনাক্ত করাকে আরো কঠিন করে তুলেছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা পূর্বানুমানের জন্য প্রয়োজনীয় ফরেনসিক বিশ্লেষণধর্মী সরঞ্জামেরও ঘাটতি এর জন্য দায়ী।

তবে জালিয়াতি প্রতিরোধে ভারত সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর সিইওদের ব্যাংকিং জালিয়াতির সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে লুক-আউট সার্কুলার ইস্যুর অনুরোধ পাঠানোর ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের (পিএনবি) প্রায় ২০০ কোটি ডলার (১৪ হাজার কোটি রুপি) আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত বিখ্যাত হীরা ব্যবসায়ী নিরব মোদি দেশ ছেড়ে পালানোর পর চলতি বছরের শুরুতে ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যাংকিং জালিয়াতির ঘটনা সামনে উঠে আসে।

পিএনবির একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে মুম্বাইয়ের ব্র্যাডলি হাউজ ব্র্যাঞ্চে যথেষ্ট সন্দেহজনক কার্যক্রমের কথা উঠে আসে, যা মোদি ও মেহুল চোকসির কোম্পানিগুলোর লেনদেন সম্পর্কে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্ক হওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। ব্যাংকটি যদি জালিয়াতির একাধিক ইঙ্গিতকে উপেক্ষা না করত, তবে হয়তো প্রতিষ্ঠানটিকে এ পরিমাণ অর্থ হারাতে হতো না। পিএনবি সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি উপেক্ষা করে গেছে, তা হলো ২০১০ সালে গোকুলনাথ শেঠি শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দেয়ার পর থেকে নিরব মোদি ও মেহুল চোকসির কোম্পানিগুলোর সঙ্গে শাখাটির অস্বাভাবিক লেনদেন।

২০১০ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে শাখাটির আমানত ও এফডির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি ডলার (প্রায় ১ হাজার ৮২ কোটি রুপি) থেকে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে প্রায় ৩২ কোটি ডলারে (২ হাজার ২৬৯ কোটি রুপি) দাঁড়ায় এবং কমতে শুরু করার আগে ২০১১ সালের জুনে তা বেড়ে সর্বোচ্চ প্রায় ৩৬ কোটি ডলারে (২ হাজার ৫৫০ কোটি রুপি) পৌঁছায়। এর পর মোদি ও চোকসির প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে যে অর্থ জমা দিয়েছিল, তার পুরো অর্থই তুলে নেয়ায় ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শাখার আমানত ও এফডির পরিমাণ কমে সর্বনিম্ন প্রায় সাড়ে ১০ কোটি ডলারে (৭৫০ কোটি রুপি) দাঁড়ায়।

এছাড়া সে সময় জালিয়াতির আরো কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শাখা ব্যবস্থাপক ও তাদের সুপারভাইজাররা অর্থের পরিমাণের দিকে ততটা নজর রাখেননি, এমনকি বেশকিছু মৌলিক ব্যাংকিং নীতিও অনুসরণ করা হয়নি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

WP Twitter Auto Publish Powered By : XYZScripts.com