শেখ হাসিনার নতুন চমক নওফেল

29

চট্টগ্রাম :ওয়ান ইলেভেনের কঠিন সময়ে চট্টলবীর এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে রাজনীতি ছাড়তে চাপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নতি স্বীকার করেননি। এ কারণে যেতে হয় জেলেও। কারাবন্দি থাকায় মেয়ে টুম্পা মারা গেলে তার মুখটিও দেখতে পারেননি তিনি।দলের জন্য, আওয়ামী লীগের জন্য মহিউদ্দিন চৌধুরীর এমন ত্যাগের গল্পের শেষ নেই। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে আমৃত্যু আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করে গেছেন তিনি। তবে বিনিময়ে নেননি কিছুই। সাদরে ফিরিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাবও!

চট্টগ্রামবাসীর অভিভাবক হয়ে মানুষকে ভালোবেসে যিনি সারাজীবন রাজনীতি করেছেন, সেই মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও অনুসরণ করে চলছেন বাবার দেখানো পথ।

সবচেয়ে তরুণ নেতা হিসেবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হওয়া নওফেল ইতিমধ্যে স্বাক্ষর রেখেছেন তার রাজনৈতিক প্রতিভার। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ছিলেন প্রথম সারিতেই।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মহিউদ্দিন চৌধুরী ও নওফেলএরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পান তিনি।

চট্টগ্রামের ছেলে নওফেলকে সংসদ নির্বাচন পরিচালনার মতো গুরুদায়িত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যে চমকের সূচনা করেছেন, সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের জন্য নওফেলকে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনের প্রার্থী মনোনীত করে চট্টগ্রামবাসীকে আবারও চমক দিলেন তিনি।

চট্টগ্রাম-৯ আসনে নওফেল প্রার্থী হচ্ছেন- এমন খবরে তার সমর্থকরা আনন্দ-উল্লাস ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন। বিরোধী দলের যাকেই এ আসনে প্রার্থী দেওয়া হোক, বিপুল ভোটে নওফেল জয়ী হবেন বলে মনে করছেন তারা।

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বাংলানিউজকে বলেন, আমার বাবা মহিউদ্দিন চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রতিবাদমুখর দিনেগুলোতে দলের জন্য সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করেছেন। একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। তবে দলের প্রতি, নেত্রীর প্রতি অগাধ আস্থা রেখেছেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রিয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে আমাকে চট্টগ্রাম-৯ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অনেক ত্যাগ রয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দিয়ে নেত্রী সেই ত্যাগের মূল্যায়ন করেছেন।

নওফেল বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তিনি উন্নয়ন করে দেখিয়েছেন। তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। এখন আমাদের কাজ হবে, সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে আবারও ক্ষমতায় আনা। এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

১৯৮৩ সালের ২৬ জুন চট্টগ্রামে জন্ম নেন নওফেল। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী এ রাজনীতিক ২০১০ সালে চসিক নির্বাচনের সময় বাবার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। এরপর থেকে সক্রিয় হন রাজনীতিতেও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

WP Twitter Auto Publish Powered By : XYZScripts.com