সংখ্যালঘু নিপীড়ন ও বৈষম্যের প্রতিবাদে কোলকাতায় মহামিছিলের ডাক

52

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় ‘সংবিধান বাঁচাও কমিটি’র পক্ষ থেকে আগামী ২৮ এপ্রিল প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে একইদিনে গভর্নর কেশরিনাথ ত্রিপাঠির কাছে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দিয়ে প্রতিকারের দাবি জানানো হবে।

দেশে দলিত ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন ও বৈষম্যের প্রতিবাদ জানানোর জন্য ওই কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলে ‘সংবিধান বাঁচাও সমিতি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ ও সমীর দাস জানিয়েছেন।

বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও ‘উদার আকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ আজ (রোববার) রেডিও তেহরানকে বলেন, দেশে ও রাজ্যে গণতন্ত্র ফেরাতে এবং তপসিলি জাতি/ উপজাতি আইন পরিবর্তনের চেষ্টার প্রতিবাদ, দলিত ও সংখ্যালঘুদের  নিপীড়ন ও বঞ্চনার প্রতিবাদে ২৮ এপ্রিল কোলকাতায় মহামিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকদিন দেশে ৬ দলিত নারী ধর্ষিতা হন। বিজেপিশাসিত রাজ্যেগুলোতে দলিত ও সংখ্যালঘু নিপীড়নের ঘটনা অনেক বেশি ঘটছে। কথিত ‘লাভ জেহাদ’ ও ‘গো-রক্ষা’র নামে নিরপরাধ মানুষজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে।’

ফারুক আহমেদ বলেন, ‘অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে বেদখল হয়ে যাওয়া ওয়াকফ সম্পত্তি ফিরিয়ে আনতে এবং ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষা করতে রাজ্য সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরে একটাও নতুনভাবে হাইমাদ্রাসা অনুমোদন দেয়নি। পুলিশ ও প্রশাসনিক নীতিনির্ধারক হিসেবে সংখ্যালঘু মুসলিম কর্মকর্তাদের কোনো জায়গায় রাখা হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গে এ পর্যন্ত কোনো মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তাকে ডিজি করা হয়নি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুলিশ ও রাজ্য সরকারের ৮২টির মতো স্বশাসিত সংস্থার কমান্ডিং পদে কোনো মুসলিম অথবা দলিত কর্মকর্তাকে বসানো হয়নি। রাজ্য সরকার ‘সাচার কমিটি’র সুপারিশ কার্যকর করে সংখ্যালঘুদের দীর্ঘকালীন বঞ্চনার অবসান ঘটানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারকে আজো পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। অবিলম্বে এসব সমস্যার নিরসন হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় আগামীদিনে দলিত ও মুসলিমরা যৌথভাবে গণআন্দোলন গড়ে তুলবে।’

‘সংবিধান বাঁচাও সমিতি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সমীর দাস বলেন, ‘সমাজের ৮৫ শতাংশ দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজনকে নানা কৌশলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চাকরি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রেও তাদেরকে চরমভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে। মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ তারা সমস্ত দিক থেকে সুবিধা ভোগ করছে। দলিত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষদের কথা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কোনোদিন আন্তরিকতার সঙ্গে ভাবেননি। সেজন্য দলিত ও সংখ্যালঘু মানুষজনের পক্ষ থেকে যৌথভাবে গণআন্দোলনের ডাক দেয়া হয়েছে।’ পার্সটুডে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

WP Twitter Auto Publish Powered By : XYZScripts.com