কৃষ্ণাঙ্গদের চেয়ে শ্বেতাঙ্গদের বেশি প্রশংসা করেন ধারাভাষ্যকররা

45

যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকান-আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর থেকেই বর্ণবৈষম্যের ব্যাপারে উত্তাল গোটা বিশ্ব। যার বাইরে নয় ক্রীড়াঙ্গনও। এরই মধ্যে অনেক ফুটবলার, ক্রিকেটার অভিযোগ করেছেন খেলার মাঠে তাদের প্রায়ই বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হয়।

তাদের অভিযোগ যে পুরোপুরি সত্য, এবার তা প্রমাণ হলো গবেষণায়। শুধু খেলার মাঠেই নয়, ধারাভাষ্যে পর্যন্ত চলে বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ। একজন কৃষ্ণাঙ্গের চেয়ে একজন শ্বেতাঙ্গ ফুটবলারকেই বেশি প্রশংসা করে থাকেন ধারাভাষ্যকররা। আবার সমালোচনার ভাগ বেশি পড়ে কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলারদের ঘাড়ে।

এ বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে ড্যানিশ ফার্ম রানরিপিটের গবেষণায়। ইংল্যান্ডের পেশাদার ফুটবলারদের সংগঠন প্রফেশনাল ফুটবলারস অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) সঙ্গে মিলে এ গবেষণা করেছে রান রিপিট। যেখানে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল লিগগুলোর ম্যাচের ধারাভাষ্য। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ছাপিয়েছে এ খবর।

রানরিপিটের গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে ২০১৯-২০ মৌসুমে ইতালিয়ান সিরি আ, স্প্যানিশ লা লিগা, ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ান ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ৮০টি ম্যাচের ইংরেজি ধারাভাষ্যকারদের দেয়া ২০৭৩টি বিবৃতি। যেখানে ৬৪৩ জন ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড়ের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে।

যেখান থেকে জানা গিয়েছে, শ্বেতাঙ্গ খেলোয়াড়দের প্রশংসা বেশি করে থাকেন ধারাভাষ্যকাররা। আবার সমালোচনা করার ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখেন কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়দের। মোট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ধারাভাষ্যকারদের ৬২ শতাংশ প্রশংসা পেয়েছেন শ্বেতাঙ্গ খেলোয়াড়রা। অন্যদিকে সমালোচনার ৬৩.৩৩ শতাংশই গিয়েছে কৃষ্ণাঙ্গদের ভাগে।

গবেষণা শেষে পিএফএ’র সমতা বিষয়ক নির্বাহী জেসন লি বলেছেন, ‘এই গবেষণার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি কীভাবে গায়ের রঙের ভিত্তিতে একজন ফুটবলারের খেলোয়াড়ি গুণাগুণও বিচার করা হয়ে থাকে। ধারাভাষ্যকাররা যেভাবে বলে, আমরা তেমনই ধারণা নেই যেকোন খেলোয়াড়ের ব্যাপারে। এ বিষয়ে এমন বৈষম্যের কোন যৌক্তিকতা নেই।’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

WP Twitter Auto Publish Powered By : XYZScripts.com