পাকিস্তানি হিন্দুদের ভারতীয় উগ্রতাবাদীদের স্বাগত

24

পাকিস্তান ছেড়ে প্রতিবেশী ভারতে পাড়ি জমাচ্ছেন সংখ্যালঘু হিন্দুরা৷ এদিকে, নিজেদের দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত উগ্র হিন্দুত্ববাদী নানা সংগঠন সীমান্তে তাদের স্বাগত জানাচ্ছে৷

সাত বছর আগে নিজের জন্মস্থান দক্ষিণ পাকিস্তানের হায়দারাবাদ ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমান ধর্মবীর সোলাঙ্কি৷ তার সহযাত্রী অন্য হিন্দুদের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে শরণার্থী হন ধর্মবীর৷

নিজের জন্মভূমি, স্মৃতি যখন সীমান্ত পার হচ্ছিলেন তখন অনুভূতি কেমন ছিল? ‘‘আমার মনে হচ্ছিলো আমার পুনর্জন্ম হয়েছে”, এক কথায় উত্তর ধর্মবীরের৷ পাকিস্তান থেকে আসা আরো কয়েক শত শরণার্থীর সঙ্গে এখন ধর্মবীরও নতুন দিল্লির প্রান্তে এক কলোনিতে বাস করেন৷

পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দুরা ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকারের প্রণয়ন করা নাগরিকত্ব আইনে সুবিধা পেতে যাচ্ছেন৷ এই আইন অনুসারে ২০১৫ সালের আগে আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা অমুসলিম শরণার্থীরা দ্রুত নাগরিকত্বের সুযোগ পাবেন৷

অভিযোগ রয়েছে, এই ‘বিতর্কিত’ আইনের মাধ্যমে উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদ উসকে দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মূল লক্ষ্য৷

যেসব প্রতিবেশী দেশের অমুসলিম নাগরিকদের এই সুযোগ দেয়া হয়েছে সেসব দেশে ‘মুসলিমেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ’৷ নতুন নাগরিকত্ব আইনে এই যুক্তি দিচ্ছে ভারত সরকার৷ কিন্তু একটি ধর্মকে বিশেষভাবে ‘আলাদা’ করার মাধ্যমে এই আইন দেশটির সেক্যুলার সংবিধান পরিপন্থি বলে দাবি করছেন বিরোধীরা৷

জীবনমান ভালো হয়নি, নিরাপত্তা এসেছে

মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কয়েক দশকের বৈষম্য ও নির্যাতন থেকে পালানোর পথ হিসেবে দেখছেন পাকিস্তানের হিন্দু সংখ্যালঘুরা৷ ২০১৯ সালের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ মাসে ১৬ হাজারেরও বেশি পাকিস্তানি শরণার্থীর আবেদন পাওয়ার কথা জানিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷

আগের বছরগুলোর তুলনায় ভিসা দেয়ার পরিমাণও কয়েকশত থেকে কয়েক হাজারে পৌঁছেছে৷ করোনা মহামারির কারণে সীমান্তের বন্ধের আগ পর্যন্তই চলছিল শরণার্থীর ঢল৷

মহামারির কারণে নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ রয়েছে৷ ধর্মবীর মনে করেন, ‘‘নতুন নাগরিকত্ব আইন আমাদের মতো মানুষের জন্য জমি ও নাগরিক হিসেবে অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার পথ করে দিয়েছে৷” মজনু কা টিলা নামের একটি কলোনিতে থাকেন ধর্মবীর৷ যমুনা নদী পাড়ের শরণার্থী কলোনিটিতে অনেক তিব্বতী শরণার্থীও থাকেন৷ সেখানে পানি ও বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা নেই৷ বেশিরভাগ শরণার্থীই দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন৷ পাকিস্তানের চেয়ে জীবনের মান খুব একটা উন্নত হয়নি বলে মনে করেন শরণার্থীরা৷ কিন্তু তারপরও জীবনের নিরাপত্তা আগের চেয়ে অনেক বেশি বলে মনে করেন তারা৷

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

WP Twitter Auto Publish Powered By : XYZScripts.com