ফাইনালে কুমিল্লা, ঝুলে থাকল রংপুর

23

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর সাবেক চ্যাম্পিয়ন বলে নয় দলীয় শক্তির বিচারেও টুর্নামেন্টের অন্যতম দুই শক্তিশালী দল রংপুর রাইডার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। কোয়ালিফায়ারের মতো মহা-গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় যখন এই দু’দল মুখোমুখি তখন আগে থেকেই বাড়তি উত্তেজনার রেশ পাওয়া যাচ্ছিল। মাঠের খেলাও উত্তেজনা ছড়ালো ষোলো আনা। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে শেষ হাসি কিন্তু হেসে ফাইনালে পৌঁছে গেছে কুমিল্লা। আর অন্য দিকে ঝুলে থাকলো রংপুরের ভাগ্য।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম কোয়ালিফায়ারে আজ রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে আট উইকেটের বিশাল জয় পেয়েছে কুমিল্লা। এই জয়ে সরাসরি ফাইনালে চলে গেল তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েসরা। আর মাশরাফি বিন মর্তুজার রংপুরকে এখন ঢাকা ডায়নামাইটস-এর বিপক্ষে খেলতে হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ওই ম্যাচ জিততে পারলে উঠে যাবে ফাইনালে, আর হারলে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায়।

টুর্নামেন্টের দুই আসর পর ফাইনালে উঠতে পারল কুমিল্লা। সর্বশেষ ২০১৫ সালের বিপিএলে মাশারাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি। তারপরের দুই আসরে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি তারা। লুইস আর শামসুরের ব্যাটে চড়ে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচল।

মিরপুরে আজ ১৬৫ রানের জবাব দিতে নেমে কুমিল্লা শুরু থেকেই দ্রুত গতিতে রান তুলতে চেয়েছে। এই চেষ্টায় তামিম ইকবাল অবশ্য সফল হতে পারেননি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে ছক্কা হাঁকানোর পরের বলে ক্যাচ আউট তামিম (১৪ বলে ১৭)। তবে দেশ সেরা ওপেনারকে তাড়াতাড়ি হারালেও সেটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হতে হয়নি কুমিল্লার সমর্থকদের। কারণ ওয়ান ডাউনে ব্যাটিং করতে নেমে চাপের মধ্যে দারুণ ব্যাটিং করেছেন এনামুল হক বিজয়। অপর প্রান্তে এভিন লুইস ছিলেন নিজের চেনা ছন্দেই। এই দুই তরুণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় কুমিল্লা।

ইনিংসের ১৬তম ওভারে বিজয় ৩২ বলে ৩৯ রান করে সাজ ঘরে ফিরলে রংপুরের সমর্থকরা একটু নড়েচড়ে বসেছিল। কারণ অপর দিকে দারুণ খেলতে থাকা লুইসকে দেখা যাচ্ছিল কিছুটা খোঁড়াতে। বিজয়ের পর ইনজুরির কারণে তখন লুইসকেও হারাতে হলে বড় চাপেই পড়ে যেতো কুমিল্লা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তেমনটা হয়নি। কেননা মাত্র ১৫ বলে ৩৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন শামছুর রহমান। হালকা অসুস্থ লুইসকে বেশি না খাটিয়ে বাউন্ডারিতেই বেশিরভাগ রান তুলে দলকে একেবারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি।

তার ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসটিতে ৪টি চার ২টি ছক্কার মার ছিল। ওদিকে ওপেনিং করতে নামা লুইস অপরাজিত ছিলেন ৫৩ বলে ৭১ রান করে। ক্যারিবীয়ান তরুণের ইনিংসের চারের মার ছিল ৫টি, ছক্কা ৩টি। শেষ পর্যন্ত ১৮.৫ ওভারে দুই উইকেটে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ১৬৬ রান তুলে ফেলে কুমিল্লা।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে রংপুর। টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের স্কোরটা গড়েছে তিনজনের কাঁধে ভর করে। নিজের স্বভাবসূলভ ব্যাটিং করতে পারেননি এটা ঠিক, তবে রংপুরের হয়ে ইনিংসের শুরুতে ৪৪ বলে ৪৬ রানের দারুণ একটা ইনিংস খেলেছেন ক্রিস গেইল।

দারুণ ফর্মে থাকা রিলে রুশো মিডল অর্ডারে করেছেন ৩১ বলে ৪৪ রান। তবে রংপুরের ইনিংসের প্রাণ ছিলেন বেনি হাওয়েল। ছয় নম্বরে নেমে মাত্র ২৮ বলে ৫৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন হাওয়েল। কুমিল্লার হয়ে একটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, সঞ্জিত সাহা, মেহেদি হাসান ও ওয়াহাব রিয়াজ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

WP Twitter Auto Publish Powered By : XYZScripts.com